চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বিশ্ববাজারে পণ্য রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২৪ দশমিক ৯ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এটা ছিল ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি। কিন্তু এর পরের ছয় মাসে টানা নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে দেশের রফতানি খাতে। সর্বশেষ জানুয়ারিতে (২০২৬) নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) কর্তৃক গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাস অর্থাৎ জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত পণ্য রফতানির মোট অর্থমূল্য ছিল ২ হাজার ৮৪১ কোটি ৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময় রফতানি হয় ২ হাজার ৮৯৬ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। এ হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রফতানি কমেছে ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। বাংলাদেশের পণ্য রফতানির দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্য জার্মানিতে পণ্য রফতানি কমেছে ১০ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
এদিকে ইপিবি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে রফতানি কার্যক্রমে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীলতা লক্ষ করা গেছে। আর গত সাত মাসে পণ্য রফতানি হ্রাস বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতির প্রভাবকে প্রতিফলিত করছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে প্রধান রফতানি গন্তব্যগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের শীর্ষ রফতানি বাজার হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫২১ কোটি ৬৩ লাখ ৪০ হাজার ডলারে। এ সময়ে দেশটিতে রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ, বছর ভিত্তিতে ৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং মাস ভিত্তিতে ২ দশমিক ২৪ শতাংশ বেড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যেও রফতানিতে ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
জার্মানি ও যুক্তরাজ্য যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম রফতানি গন্তব্য হিসেবে তাদের অবস্থান বজায় রেখেছে উল্লেখ করে ইপিবি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, অর্থবছরের সাত মাসে এ দুই দেশে রফতানি হয়েছে যথাক্রমে ২৮৫ কোটি ২২ লাখ ডলারের পণ্য। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয়েছিল ৩১৮ কোটি ১৬ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পণ্য। এ হিসেবে দেশটিতে পণ্য রফতানি কমেছে ১০ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
তৃতীয় বৃহত্তম বাজার যুক্তরাজ্যে চলতি অর্থবছরের সাত মাসে পণ্য রফতানি হয়েছে ২৭৭ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয়েছিল ২৭০ কোটি ৬৭ লাখ ২০ হাজার ডলারের। এ হিসাবে সাত মাসে যুক্তরাজ্যে পণ্য রফতানি বেড়েছে ২ দশমিক ৬৯ শতাংশ। যা প্রধান বৈশ্বিক বাজারগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দৃঢ় বাণিজ্যিক সম্পর্ককে পুনরায় নিশ্চিত করে বলে জানিয়েছে ইপিবি। যদিও সংস্থাটির পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলাদেশে শীর্ষ ১০ গন্তব্যের মধ্যে চারটিতেই ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে বা রফতানি কমেছে।
তৈরি পোশাক খাত তার শক্তিশালী ও প্রভাবশালী অবস্থান বজায় রেখেছে উল্লেখ করে ইপিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পণ্যটির রফতানি হয়েছে ২ হাজার ২৯৮ কোটি ২ লাখ ডলারের। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এটি বৈশ্বিক বাজারে টেকসই চাহিদা ও খাতটির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতিফলন।
ইপিবি জানিয়েছে, তৈরি পোশাক খাত বাদে শীর্ষ ছয়টি রফতানি খাত—চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং হিমায়িত মাছ। এসব পণ্যের পারফরম্যান্স মিশ্র ছিল জানিয়ে ইপিবি বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক, কিছু ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। তবে উল্লেখযোগ্যভাবে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত পণ্য এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য—এ খাতগুলো বছরওয়ারি ও মাসওয়ারি উভয় ক্ষেত্রেই প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।